৩৩ বৎসর অতিক্রান্ত বয়স
নজরুল ইসলামের ৩৩ বৎসর অতিক্রান্ত বয়স শুরু হয়েছিল ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৯ বঙ্গাব্দ (২৪ মে ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দ) থেকে। শেষ হয়েছিল ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৩৪০ বঙ্গাব্দ (বুধবার ২৪শে মে ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দ)


২৫-৩১ মে ১৯৩২ (১১-১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৯)
মে মাসের প্রথম কয়েক দিন নজরুল ব্যস্ত ছিলেন রেকর্ডে গান নিয়ে। এই গানগুলো রেকর্ড হয়েছিল জুন মাসে।

জুন ১৯৩২ (১৮ জ্যৈষ্ঠ- ১৬ আষাঢ় ১৩৩৯ বঙ্গাব্দ)
এই মাসে প্রকাশিত হয়েছিল ৯টি রেকর্ডে মোট ১৮টি গান। শিল্পীরা ছিলেন- হরিমতী, প্রফেসর জি দাস, হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, জীবনানন্দ গোস্বামী, মৃণালকান্তি ঘোষ, কমলা ঝরিয়া, ধীরেন্দ্রনাথ দাস, কাসেম মল্লিক আঙ্গুরবালা।এই মাসে রেকর্ডে প্রকাশিত গানের তালিকা। উল্লেখ্য, এই মাসে রেকর্ডে নতুন গান প্রকাশিত হয়েছিল ৬টি। ক্রমিক সংখ্যা ৩৬৬ থেকে ৩৭১।

১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দের শুরুর দিকে নজরুলের সাথে  তখন থাকতেন জেলেটোলার নলিনীকান্ত সরকারের বাড়িতে। সম্ভবত নলিনীকান্ত সরকারের উদ্যোগে তাঁর বাড়িতে গ্রামোফোন কোম্পানির রেকর্ডিং কোম্পানির সাথে চুক্তি হয়েছিল যে, তাঁর রচিত গানে একমাত্র তিনিই সুর করবেন। এই বছরের শুরুতেই নজরুল সেই চুক্তি ভঙ্গ করলেন। তিনি তাঁর রচিত দুটি গান 'কালো মেয়ের পায়ের তলায়' এবং 'আর লুকাবি কত' গানের সুর করতে দিলেন ধীরেন্দ্রনাথ দাসকে।
 
  1. টুইন। জুন ১৯৩২। এফটি ২০২৬। শিল্পী: হরিমতী
    • কে নিবি ফুল কে নিবি ফুল [তথ্য]
    • ঝরা ফুল দল কে অতিথি [তথ্য]
  2. টুইন। জুন ১৯৩২। এফটি ২০২৮। প্রফেসর জি দাস
    • কলগাড়ী যায় ভোঁসর ভোঁসর [তথ্য]
    • ঐ কুজার কী রূপের বাহার দেখো [তথ্য]
  3. টুইন। জুন ১৯৩২। এফটি ২০২৯। হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. টুইন। জুন ১৯৩২। এফটি ২০৩০। জীবনানন্দ গোস্বামী
    • এস হৃদি রাসমন্দিরে [তথ্য]
    • হে গোবিন্দ অরবিন্দ [তথ্য]
  5. টুইন। জুন ১৯৩২। এফটি ২০৩১। মৃণালকান্তি ঘোষ
    • কালো মেয়ের পায়ের তলে [তথ্য]
    • আর তুই লুকাবি মা  [তথ্য]
  6. এচএমভি। জুন ১৯৩২। এন ৭০০১। কমলা ঝরিয়া
    • কেন করুণ সুরে হৃদয় পুরে  [তথ্য]
    • পরদেশী বঁধু ঘুম ভাঙায়ো [তথ্য]
  7. এচএমভি। জুন ১৯৩২। এন ৭০০২। ধীরেন্দ্রনাথ দাস
    • তোমায় কূলে তুলে বন্ধু  [তথ্য]
    • আমার গহীন জলের নদী [তথ্য]
  8. এচএমভি। জুন ১৯৩২। এন ৭০০৫। কাসেম মল্লিক
    • বক্ষে আমার কাবার ছবি [তথ্য]
    • বাজলো কি রে ভোরের সানাই [তথ্য]
  9. এচএমভি। জুন ১৯৩২। পি ১১৭৪৭। আঙ্গুরবালা
    • গানগুলি মোর আহত পাখির সম [তথ্য]
    • নিশি ভোর হলো জাগিয়া [তথ্য]
       

জুলাই ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দ (১৭ আষাঢ়- ১৫ শ্রাবণ ১৩৩৯)
এই মাসে প্রকাশিত হয়েছিল গীতি সংকলন 'সুর-সাকী'। এছাড়া ২টি গানের রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল এইচএমভি থেকে এবং পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল ২টি গানের স্বরলিপি।।

এই মাসে পত্রিকায় প্রকাশিত রচনা

এই মাসে রেকর্ডে প্রকাশিত গানের তালিকা আগষ্ট ১৯৩২ (১৬ শ্রাবণ-১৫ ভাদ্র ১৩৩৯)
এই মাসে নজরুল আনুষ্ঠানিকভাবে মেগাফোন রেকর্ড কোম্পানিতে যোগদান করেন। ১২ আগষ্ট (বুধবার ২৭ শ্রাবণ ১৩৩৯), মেগাফোন কোম্পানি নজরুলের স্বকণ্ঠে গীত ৪টি গান রেকর্ড করে। দুটি রেকর্ডে এই চারটি প্রকাশিত হয়েছিল। এই গান চারটি হলো এর বাইরে এই মাসে যে সকল গানের রেকর্ডে প্রকাশিত হয়েছিল, সেগুলো হলো- সেপ্টেম্বর ১৯৩২ (১৬ ভাদ্র-১৫ আশ্বিন ১৩৩৯)
১০ সেপ্টেম্বর (শনিবার ২৫ ভাদ্র ১৩৩৯) কলকাতা ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটিউট হলে- বঙ্গীয় পরিশীলন সমিতির সাহায্যার্থে একটি বিচিত্রানুষ্ঠান হয়। এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সঙ্গীতটি নজরুলের পরিচালনায় পরিবেশিত হয়েছিল। গানটি হলো- ২৩ সেপ্টেম্বর মাসে (শুক্রবার ৭ আশ্বিন ১৩৩৯) এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানির সাথে চুক্তি হয়। এই চুক্তিতে নিম্নোক্ত গানের সন্ধান পাওয়া যায়।

এই মাসে পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতা ও গান

মেগাফোন রেকর্ড কোম্পানির আবির্ভাব
১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় মেগাফোন রেকর্ড কোম্পানি। এই কোম্পানির মালিক জিতেন্দ্রনাথ ঘোষ ভাগ্যান্বেষে বরিশালের এক অজ পাড়াগাঁ থেকে কলকাতায় আসেন। কলকাতায় সাইকেল মেরামতের কাজ দিয়ে তাঁর জীবিকা অর্জন শুরু হয়। এরপর তিনি ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দের ২১শে নভেম্বর হ্যারিসন রোডে 'জে.এন. ঘোষ কোং' নামে একটি সাইকেল মেরামতের দোকান দেন।  পরে এই দোকানে তিনি নতুন ও পুরাতন সাইকেল বিক্রয় শুরু করেন। কলকাতায় গ্রামোফোন রেকর্ডের বিক্রয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকলে, তিনি এই দোকান থেকে গ্রামোফোন যন্ত্র, রেকর্ড বাদ্যযন্ত্র বিক্রয় করা শুরু করেন। এরপর তিনি গ্রামোফোন কোম্পানির জর্জ কুপারের আনুকূল্যে তিনি নিজস্ব 'মেগাফোন' লেবেলে গ্রামোফোন বিক্রয় শুরু করেন। এই সময় এই লেবেল তিনি হারমোনিয়ামও বিক্রয় করতেন।  উল্লেখ্য এই রেকর্ড কোম্পানির সূত্রে জিতেন্দ্রনাথ ঘোষকে লোকে মেগা ঘোষ নামে অভিহিত করতেন।

এক সময় তিনি এই লেবেলে রেকর্ড তৈরির উদ্যোগ নেন। ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ৭১/১ হ্যারিসন রোডে 'মেগাফোন' রেকর্ডে নামে একটি অফিস খোলেন।

মেগাফোনের সাথে নজরুলের চুক্তি
গ্রামোফোন রেকর্ড কোম্পানির সাথে কাজী নজরুল ইসলাম-এর একটি মামলা হয়। মামলার বিষয় ছিল গীতিকার এবং শিক্ষক হিসেবে স্বত্তাধিকার। এই মামলায় জয় লাভ করার পর নজরুল ইসলাম-এর সাথে গ্রামোফোন কোম্পানির তিক্ততার সৃষ্টি হয়। ফলে তিনি গ্রামোফোন কোম্পানি ত্যাগ করে মেগাফোন-এর সাথে চুক্তবদ্ধ হন। এই সময় কাজী নজরুল ইসলাম- এবং তাঁর সাথে আব্বাসউদ্দীন আহমদ, ধীরেন্দ্রনাথ দাস সহ বেশকিছু স্বনামধন্য শিল্পী যোগদান করেছিলেন।

আসাদুল হক-এর রচিত 'নজরুলের শ্রুতিধর ধীরেন দাস' গ্রন্থে উল্লেখ আছে- 'মেগাফোন কোম্পানির পিছনের বাড়ির দোতলায় একটি কামরায় এক সন্ধ্যায় ঘটা করে মেঝেতে শতরঞ্জি বিছানো হলো। শতরঞ্জির চার কোণা ধরলেন প্রখ্যাত চারজন। ১. নজরুল, ২. ধীরেন দাস, ৩. হীরেন বসু ও ৪,মেগা ঘোয। এই গানের প্রথম রেকর্ড ছিল নজরুলের।'  [পৃষ্ঠা: ৪৯]

১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর  (১৬ ভাদ্র-১৫ আশ্বিন ১৩৩৯) মাসে নজরুল ইসলাম-এর রচিত এই দুটি গানের রেকর্ডে প্রকাশিত হয়েছিল। দুটি গানের শিল্পীই ছিলেন ধীরেনদাস। গান দুটি হলো-

এরপর এই মাসে মেগাফোন থেকে আরও টি রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এগুলো হলো-

এই মাসে অন্যান্য রেকর্ড কোম্পানি থেকে প্রকাশিত রেকর্ডসমূহ

এই মাসে বাতিলকৃত রেকর্ড অক্টোবর ১৯৩২ (১৫ আশ্বিন-১৪ কার্তিক ১৩৩৯)
এই মাসের প্রথম দিনে আজকাল পত্রিকায় একটি গান প্রকাশিত হয়েছিল। গানটি হলো-
  • ভুল করে কোন্‌ ফুল-বিতানে [তথ্য]
    আজকাল। ১লা অক্টোবর (শনিবার ১৫ আশ্বিন ১৩৩৯)

এই মাসে নজরুলের রচিত দুটি গীতিগ্রন্থ বনবাণী ও জুলফিকার প্রকাশিত হয়েছিল।

১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের ৫-৬ নভেম্বরে সিরাজগঞ্জে 'বঙ্গীয় মুসলিম তরুণ সম্মিলন' অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মিলনে নজরুলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল অক্টোবর মাসের প্রথমার্ধে। নজরুল এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ১৬ অক্টোবর ১৯৩২ (রবিবার ৩০ আশ্বিন) কলকাতা থেকে 'বঙ্গীয় মুসলিম তরুণ সম্মেলন‌-এর অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি এম সিরাজুল ইসলামকে একটি চিঠি লেখেন। অবশ্য চিঠিতে সিরাজুল ইসলামকে 'জনাব সম্পাদক সাহেব' সম্বোধন করা হয়েছে।        [সিরাজুল ইসলামকে লেখা পত্র]

এই অনুষ্ঠানে নজরুলের উপস্থিতি সুনিশ্চিত করার জন্য ৩০ শে অক্টোবর (রবিবার ১৩ কার্তিক ১৩৩৯) কবি ইসমাইল হোসেন সিরাজী এবং তাঁর পুত্র সৈয়দ আসাদ-উদ-দৌলা সিরাজ কলকাতায় এসে নজরুলের সাথে দেখা করেন। এই সময় এঁদের সাথে ছিলেন সুফী জুলফিকার হায়দার।

এই মাসে প্রকাশিত গানের তালিকা

এই মাসে রেকর্ডে প্রকাশিত গানের তালিকা

নভেম্বর ১৯৩২ (১৫ কার্তিক-১৫ অগ্রহায়ণ ১৩৩৯)
গত মাসে সিরাজগঞ্জে 'বঙ্গীয় মুসলিম তরুণ সম্মিলন'-এ যোগদানের আমন্ত্রণ রক্ষায় নজরুল সম্মতি জানিয়ে একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেপ্টেম্বর মাসের ২ তারিখে (বুধবার ১৬ কার্তিক ১৩৩৯), নজরুল এই বিষয়ে চূড়ান্ত জানিয়েসিরাজুল ইসলামকে পুনরায় চিঠি লেখেন। এই চিঠি থেকে জানা যায়, ৫ নভেম্বর তিনি ওই সম্মিলনে যোগদানের জন্য রওনা দেবেন।        [সিরাজুল ইসলামকে লেখা পত্র]

৪ নভেম্বর (শুক্রবার, ১৮ কার্তিক) রাতে নজরুল কলকাতা থেকে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ৫ নভেম্বর (শনিবার, ১৯ কার্তিক) ভোরে 'বঙ্গীয় মুসলিম তরুণ সম্মিল‌-এর অধিবেশনে সিরাজগঞ্জ রেল স্টেশনে পৌঁছান। সঙ্গে ছিলেন সঙ্গীশিল্পী আব্বাস উদ্দিন, ময়মনসিংহ থেকে নির্বাচিত বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভা তৎকালীন সদস্য গিয়াস উদ্দিন আহমদ এবং সুফি জুলফিকার হায়দার। এই সময় প্রচণ্ড শীতের মধ্যে ৭-৮ হাজার মানুষ এঁদের অভ্যর্থনার জন্য হাজির হয়েছিল। এই সময় নজরুলের পরিধানে ছিল খদ্দরে টুপি, শেরোয়ানি, পায়জামা ও উত্তরীয়।

স্টেশন থেকে নজরুলকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে এক বিরাট শোভাযাত্রা সহকারে নগর পরিক্রমা শেষে অভ্যর্থনা কমিটির অনযতম সদস্য মোক্তার আফজাল আলী খানের যমুনা তীরস্থ বাসভবনে নিয়ে আসা হয়। এখানেই তাঁর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এখানে মধ্যাহ্ন ভোজন ও বিশ্রামের পর, বেলা একটায় বঙ্গীয় মুসলিম তরুণ সম্মিলন-এর জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে নির্ধারিত পৌর মিলায়তনে আনা হয়। সেখানে নজরুলকে বিপুলভাবে সম্বর্ধিত করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সঙ্গীত হিসেবে আব্বাস উদ্দিন পরিবেশন করেন ‌'দিকে দিকে পুনঃ জ্বলিয়া উঠিছে।' এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন নজরুল ইসলাম। এই সম্মেলনে তিনি যে বক্তব্য রাখেন, সওগাত পত্রিকার বার্ষিক ১৩৩৯ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। শিরোনাম ছিল- যৌবনের ডাক। এই সম্মেলনের প্রথম দিনের সমাপ্তি ঘটেছিল 'চল্ চল্ চল্' এবং 'কাণ্ডারী হুঁসিয়ার‌' গান দুটি।

৬ নভেম্বর (রবিবার, ২০ কার্তিক)  এই সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন  অধিবেশন শুরু হয় ১০টায়। এ্ অনুষ্ঠানে সৈয়দ আকবর আলী, ইজ্জত আলী পেশকার, আফজাল মোক্তার, আসাদ-উদ-দৌলা সিরাজী, প্রদেশিক মন্ত্রী গিয়াস উদ্দিন আহমেদ ও সুফি জুলফিকার হায়দার বক্তৃতা করেন। এই দিনের অনুষ্ঠানে আব্বাস উদ্দিন ও অন্যান্যরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এ ছাড়া নজরুল 'নারী' কবিতা আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠান শেষে নজরুল ইসমাইল হোসেন সিরাজীর বাড়িতে যান। সেখানে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এই মাসে পত্রিকায় প্রকাশিত রচনা

নভেম্বর মাসে শিশুদের জন্য 'খাঁদু দাদু' নামে একটি রেকর্ড নাটিকা রচনা করেন। এই নাটকের ৪টি গান গেয়েছিলেন- শিশুমঙ্গল সমিতির শিল্পীরা।

ডিসেম্বর ১৯৩২ (১৬ অগ্রহায়ণ-১৬ পৌষ ১৩৩৯)
১৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার ১ পৌষ ১৩৩৯), নাট্যকার মন্মথ রায় রচিত সঙ্গীত বহুল নাটক 'মহুয়া ' কলকাতা বেতার কেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত হয়েছিল।

১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দের ২৫-২৬শে ডিসেম্বর [রবিবার-সোমবার, ১০-১১ পৌষ, ১৩৩৯ বঙ্গাব্দ] তারিখে কলকাতার এলবার্ট হলে 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সম্মেলন'-এর পঞ্চম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মিলনের মূল সভাপতি ছিলেন কায়কোয়াবাদ। আর অভ্যর্থনা কমিটির সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন- আবুল কালাম শামসুদ্দীন এবং আব্দুল কাদির। এই অধিবেশনের প্রথম দিনে উদ্বোধনী সঙ্গীত হিসেবে পরিবেশিত হয়েছিল- নজরুলের রচিত 'এস এস রসলোক বিহারী এস মধুকর'। এই গানটি পরিবেশন করেছিলেন নজরুল নিজেই। এরপর তিনি আরও কিছু গান গেয়ে শোনান। এই অনুষ্ঠানে কায়কোবাদ আবেগাপ্লুত হয়ে নজরুলের গলায় মালা পরিয়ে আশীর্বাদ করেন। এই দিন সন্ধ্যায় নজরুলের পরিচালনায় গানের জলসা বসে। অধিবেশনের শেষ দিন অর্থাৎ ২৬শে ডিসেম্বর [সোমবার, ১১ পৌষ, ১৩৩৯ বঙ্গাব্দ], সমাপনী অধিবেশনে নজরুল গান পরিবেশন করেন। 

এই মাসে পত্রিকায় প্রকাশিত গানের তালিকা

এই মাসে পত্রিকায় প্রকাশিত গানের তালিকা জানুয়ারি ১৯৩৩ (১৭ পৌষ-১৮ মাঘ-১৮ মাঘ ১৩৩৯)
এই সময়ের নজরুলের রচিত গান বিভিন্ন পত্রিকা ও রেকর্ডে প্রকাশিত হয়েছিল।

এই মাসে রেকর্ডে প্রকাশিত গানের তালিকা।

এই মাসে পত্রিকায় প্রকাশিত গানের তালিকা।

ফেব্রুয়ারি ১৯৩৩ (১৯ মাঘ-১৬ ফাল্গুন ১৩৩৯)
এই মাসে এইচএমভি শিশুমঙ্গল প্রযোজিত পুতুলের বিয়ে নাটকের রেকর্ড প্রকাশ করে। এই রেকর্ডের গানগুলো ছিল- এর বাইরে আর যেসকল গানের রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল সেগুলো হলো- এই মাসে পত্রিকায় প্রকাশিত রচনা মার্চ ১৯৩৩ (১৭ ফাল্গুন-১৭ চৈত্র ১৩৩৯)
এই মাসে রেকর্ডে প্রকাশিত গানের তালিকাএই মাসে পত্রিকায় প্রকাশিত রচনা এপ্রিল ১৯৩৩ (১৮ চৈত্র ১৩৩৯- বৈশাখ ১৩৪০)
এই মাসে রাজবাড়িতে কৃষি-সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির নিমন্ত্রণ পেয়ে নজরুল রাজবাড়ি সদরে আসেন। সকালে পাংশা রেল স্টেশনে পৌঁছালে সেখানকার অভ্যর্থনা কমিটির আহ্বায়ক এয়াকুব আলী চৌধুরী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁকে সম্বর্ধনা জানান। বিকালে মুচিরাম সাহার গুদাম প্রাঙ্গনে আয়োজিত সমাবেশে নজরুল তাঁর নারী কবিতা আবৃত্তি করে শোনান। সন্ধ্যায় ডাক বাংলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি ‌'টলমল টলমল পদভরে', 'জাতের নামে বজ্জাতি', 'বাগিচায় বুলবুলি তুই' ইত্যাদি গানগুলো পরিবেশন করেন।

এই মাসে পত্রিকায় প্রকাশিত গানসমূহ

এই মাসে রেকর্ডে প্রকাশিত গান

এই মাসে বাতিলকৃত রেকর্ড ১-১০ মে ১৯৩৩ (১৮ বৈশাখ-১০ জ্যৈষ্ঠ ১৩৪০)
এই মাসের ৭-৮ তারিখে (রবিবার-সোমবার ২৪-২৫ বৈশাখ ১৩৪০), চট্টাগ্রাম জেলা সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেছিলন আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ। সম্মেলনের অভ্যর্থনা সভাপতি ছিলেন মুহম্মদ এনামুল হক। এ্‌ই অনুষ্ঠানে যোগদান করেছিলেন- আবুল ফজল, মাহবুব-উল আলম, হবীবুল্লাহ বাহার, ওহীদুল আলম প্রমুখ। নজরুল-বিরোধিতার অন্যতম ইন্ধনদাতা মোহাম্মদী পত্রিকার পগরাক্তন সম্পাদক নজির আহমদ চৌধুরীও সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি নজরুলকে কটাক্ষ করে বলেন- ইংরেজদের সাহায্য করার জন্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যোগদান করেছিলেন। নজরুল এর জবাবে বলেন যে, তিনি চপল তারুণ্যে যুদ্ধে যোগদান করেছিলেন। এর পিছনে কোনো রাজনৈতিক কারণ ছিল না।  এই সম্মেলনের প্রভাতী অনুষ্ঠানে নজরুল অংশগ্রহণ করেন এবং বৈকালিক অধিবেশনে গান ও আবৃত্তি করেন।

এই মাসে পত্রিকায় প্রকাশিত রচনাসমূহ। এই মাসে রেকর্ডে প্রকাশিত গানসমূহ

অপ্রকাশিত রেকর্ড


সূত্র